নিউটনের ধর্মতত্ত্ব:

আমরা বেশির ভাগই বিজ্ঞানী নিউটনকে চিনি; কিন্তু আমরা অধিকাংশই 'স্ব-ধর্মীয় স্কলার' নিউটনকে চিনি না।

অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ারই কথা। নিউটন এর বিজ্ঞানীর পাশাপাশি আরেকটা পরিচয় ছিল। তিনি ছিলেন একজন ধর্মীয় নেতা। তিনি সারাজীবনে বিজ্ঞান নিয়ে যত কাজ করেছেন, ধর্ম নিয়ে কাজ করেছেন তার তিন গুণ। কিন্তু কোনো এক আশ্চর্যের কারণে তার ধার্মিকতা আর ধর্ম নিয়ে তার গবেষণার ব্যাপারটি আমাদের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়। যদিও তার ধারণার সাথে আমরা মুসলিমরা পুরোপুরি সহমত প্রকাশ করি না। তবে আল্লাহর একত্ববাদের দিক দিয়ে নিউটনের সাথে আমাদের কোনো দ্বন্দ নেই। 

পদার্থের অবস্থা বোঝাতে নিউটনের আবিষ্কার করতে হয়েছিল "তিনটি সূত্র"। আর ঈশ্বরের অবস্থা বোঝাতে নিউটনকে ১২টি সূত্র দিতে হয়েছিল।
১ম সূত্রঃ- "ঈশ্বর হলেন একজন। তিনি চিরঞ্জীব,সর্বজ্ঞানী এবং সর্বশক্তিমান। তিনি হলেন আসমান ও জমিনের স্রষ্টা।মানুষ এবং ঈশ্বর এর মাঝে সম্পর্ক স্থাপনকারী মাধ্যম হলেন যিশু।" 

২য় সূত্রঃ- "ঈশ্বর হলেন অদৃশ্য। কোনো দৃষ্টি তাকে দেখেননি অথবা দেখতে পারে না। তিনি ব্যতীত অন্য সব দৃশ্যমান।" 

তৃতীয় সূত্রঃ- "ঈশ্বর নিজেই নিজের ভেতর জীবন্ত এএবং তিনি নিজের মধ্যে থেকেই নিজ ক্ষমতাবলে বান্দাদের জীবন দান করেন।" 

চতুর্থ সূত্রঃ- "ঈশ্বর হচ্ছেন একজন সর্বজ্ঞানী।তার অন্তরেই রয়েছে সকল জ্ঞান।তিনিই যিশুর কাছে ভবিষ্যৎ-বিষয়ক সকল জ্ঞান প্রেরণ করেন।ঈশ্বরের দূতগণ ব্যতীত আসমান কিংবা জমিনে এমন কেউ নেই, যারা সরাসরি ঈশ্বরের কাছ থেকে ভবিষ্যৎ বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে পারে। এ কারণেই যিশু ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত এবং তিনি হলেন ঈশ্বরের দূত।" 

পঞ্চম সূত্রঃ- "ঈশ্বর হলেন অবিচল। জগতের কোনো স্থানই তার অনুপস্থিতিতে শুন্য কিংবা তার উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে উঠতে পারে না;বরং তার উপস্থিতিই হলো প্রকৃতির অনন্ত অপরিহার্যতা। তিনি ব্যাতীত অন্য সবকিছু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে থাকে।" 

ষষ্ঠ সূত্রঃ- "যিশুর আগমনের পূর্বেও সব ধরনের প্রার্থনার একমাত্র হকদার ছিলেন কেবল ঈশ্বর,এবং এখনও তা-ই আছেন। যিশু ঈশ্বরের প্রার্থনা কমাতে দুনিয়ায় আগমন করেননি।" 

সপ্তম সূত্রঃ- "প্রার্থনাগুলো তখনই ফলপ্রসূ হয় যখন সেগুলো ঈশ্বরের মনোনীত দূতের নামের মাধ্যমে করা হয়।" 

অষ্টম সূত্রঃ- "আমরা কেবল ঈশ্বরের কাছেই কৃতজ্ঞ;কারণ, তিনিই আমাদের সৃষ্টি করেছেন,আমাদের খাদ্যের যোগান দিয়েছেন, পরনের বস্ত্র এবং জীবনের অন্যান্য কল্যাণ প্রদান করেন তিনিই। যিশুর নামের বদৌলতে আমরা ঈশ্বরের কাছে যা-ই চাই,তিনি আমাদের তা দিয়ে থাকেন।" 

নবম সূত্রঃ- "মধ্যস্থতা বা সুপারিশের জন্য যিশুর প্রার্থনা করার কোনো দরকার নেই। আমরা যদি সঠিকভাবে ঈশ্বরের প্রার্থনা করি,তাহলে যিশু এমনিতেই আমাদের জন্য ঈশ্বরের কাছে সুপারিশ করবেন।" 

দশম সূত্রঃ- "পরিত্রাণের জন্য যিশুর নাম নিয়ে ঈশ্বর ছাড়া অন্য কারো কাছে প্রার্থনা করার কোনো দরকার নেই।" 

এগারোতম সূত্রঃ- কোনো ফেরেশতা বা রাজা বাদশাহকে ঈশ্বরের গুণবাচক উপাধিতে ভূষিত করলে সেটি প্রথম আদেশের বিপরীতে চলে যায় না;কিন্তু কোনো ফেরেশতা বা রাজা বাদশাহকে যদি ঈশ্বরের মতো ইবাদাত করা হয়, তখনই সেটি প্রথম আদেশের বিরুদ্ধে চলে যায়। প্রথম আদেশ হলো,'তোমরা আমি ছাড়া অন্য কারো পূজা কোরো না।' 

বারোতম সূত্রঃ- " আমাদের কাছে ঈশ্বর হলেন এক এবং একক। তিনি আমদের এবং অন্য সব বস্তুর প্রভু,এমনকি তিনি যিশুরও প্রভু।" 


লেখক: Abdur Rakib