ফিকহের উৎপত্তি ও ক্রমবর্ধমান বিকাশ:

সালাফ থেকে বর্ণিত, এতে বলা হয়েছে -
(( الفقه زرعه عبدالله بن مسعود وسقاه علقمة ، وحصده ابراهيم النخعي ، وداسه حماد و طحنه ابو حنيفة ، وعجنه ابو يوسف و خبزه محمد ، وسائر الناس يأكلون من خبزه ))
সরল অনুবাদঃ-
ফিকহের বিজ বপন করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাস'ঊদ রাঃ, এতে পানি সেচ করেছেন আলক্বামা রাঃ, ফসল কেটেছেন ইবরাহিম নাখায়ী, মাড়িয়েছেন হাম্মাদ, এবং তা চূর্ণ করেছেন আবু হানীফা, তাল বানিয়েছেন আবু ইউসুফ, সর্বশেষ রুটি বানিয়েছেন মুহাম্মাদ রাঃ এবং সকল মানুষ তাঁর রুটির ভক্ষণকারী৷
আরেকটু বুঝিয়ে বলি -
উপরোক্ত লেখাটিতে সু-বিন্নস্ত ফিকাহ এর সূচনা ও প্রস্তুতকারকদের নিয়ে একটা গ্রাফ চার্ট তৈরী করা হয়েছে। ফিকাহকে কোন এক ফসলের সাথে সাদৃশ্য করে বলা হয়েছে যে,
→ ফসলটির বিজ বপন করেছেন __ জালিল কাদর সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস'উদ রাঃ৷
→ বিজটিতে পানি সেচ করেছেন ____ বিখ্যাত তাবেয়ী আলক্বামা রাঃ।
→ ফসল কেটে প্রস্তুত করেছেন _____ বিখ্যাত তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাঃ।
→ কাটার পর ফসলটিকে মাড়িয়ে-গুড়িয়েছেন __ ইমামে আজম আবু হানীফার উস্তাদ হাম্মাদ রাঃ৷
→ অতঃপর ফসলটিকে চূর্ণ করেছেন ___ ইমামে আজম আবু হানীফা রাঃ।
→ ফসলটিকে পূর্ণাঙ্গরুপে তাল বানিয়েছেন ____ আবু হানীফার ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ রাঃ।
→ সর্বশেষ, ফসলটিকে সকলের খাবারের জন্য উপযুক্ত রুটি করেছেন ___ আবু হানীফার ছাত্র ইমাম মুহাম্মাদ রাঃ। (১)
আলোচনাটি একেবারে অবাস্তব নয়। সে'যুগের মনীষাগণ কাল্পনিক বা অবাস্তবিক কিছু লিখতেন না। উপরের সাদৃশ্যপূর্ণ বক্তব্যের সামঞ্জস্য মিলে আরেকটি আরবী কবিতায়। যেথায় একজন আরবের প্রাচীন কবি হুবহু কবিতার আলোকে শ্লোকে প্রকাশ করেন -
الفقه زرع ابن مسعود و علقمة - حصاده ثم ابراهيم دواس
نعمان طاحنة يعقوب عاجنة -- محمد خابز والاكل الناس
উল্লেখ্যঃ- কবিতাটি উপরের বক্তব্যকে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন করায় পুণরায় অনুবাদ দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করি নাই। (২)
শেষ কথা, যারা ইসলামী শারীয়ার ইতিহাস পড়েছেন, তাদের কারো কাছে এক কথা গোপন নয় যে, ফিকহের বিন্নাস সূচিত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস'উদ রাঃ থেকে। যিনি ছিলেন কূফার প্রধান মুফতি/মুয়াল্লীম। এছাড়াও আরো অসংখ্য সাহাবাদের বসবাস ছিলো কূফা নগরীতে।
সে'সময়ে কূফা নগরীতে সাহাবাদের শিক্ষা-দীক্ষায় আলোকিত হয়েছিলেন অসংখ্য তাবেয়ী। তন্মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ ও জ্ঞানে বড় ছিলেন আলক্বামা, ইবরাহীম নাখায়ী কিংবা হাম্মাদ রাঃ।
আর সে'সব জালিল তাবেয়ীদের সংস্পর্শে ও সাহচর্যে দ্বীনি জ্ঞান লাভ করেন ইমাম আজম আবু হানিফা রাঃ৷ যার মাধ্যমে ইসলামী ফিকাহ সু-শৃঙখলা ফিরে পায়। বিষয় ভিত্তিক সাজানো-গুছানো দেখতে পায়৷
 
অবশেষ, ইমাম আজম আবু হানীফা রাঃ এর সোহবতে ধন্য ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ রাঃ এর অক্লান্ত পরিশ্রমে ফিকাহ শাস্ত্র লিপিবদ্ধ হয়ে পরবর্তী উম্মাহ পর্যন্ত পরম্পরায় পৌঁছে। তারা ফিকাহ শাস্ত্রকে জবত করেছিলেন, সংকলন করেছিলেন।সর্বদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিয়ে উম্মাহের জন্য ফিকাহ শাস্ত্র হাতের-নাগালে পৌঁছিয়ে দিয়েছিলেন।
তাহলে আমরা সর্বশেষ ফিকাহ শাস্ত্রের সংক্ষিপ্ত চার্ট দেখে নেই।
স্থান - ইরাকের কূফা নগরী
সূচনা -
আব্দুল্লাহ ইবনে মাস'উদ রাঃ ( সাহাবী )
                    ↓
আলক্বামা রাহিমাহুল্লাহ ( বড় তাবেয়ী )
                    ↓
ইবরাহীম নাখায়ী ( তাবেয়ী )
                    ↓
হাম্মাদ বিন আবু সুলাইমান ( তাবেয়ীঃআবু হানিফার উস্তাদ )
                    ↓
ইমামে আজম আবু হানীফা ( তাবেয়ীঃ মতানৈক্য)
                    ↓
ইমাম আবু ইউসূফ ( আবু হানীফার ছাত্র )
                    ↓
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ( আবু হানীফার ছাত্র )

লেখক: Abdur Rakib